September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ইংল্যান্ডের সফর অস্ট্রেলিয়ার ভুল ধারণা ভেঙে দিতে পারে

নাদীম কাদির: ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংলিশ ক্রিকেট টিমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে বাংলাদেশ। অন্তত এমনটাই আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে এখন স্থান করে নিয়েছে ফিজ ভীতি, জঙ্গি হামলার আশঙ্কা।
এই সফর একটা সময় পর্যন্ত অনিশ্চিতই ছিল। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নাজমুল হাসান পাপনকে ধন্যবাদ যে, ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত সফরে সম্মত হয়েছে।
আমি এখানকার ইংরেজি গণমাধ্যমকে বলেছি, ‘সফর বাতিল করে জঙ্গিবাদের কাছে মাথা নোয়াবেন না। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ান। আসুন সবাই মিলে চরমপন্থীদের মূলোৎপাটন করি।’
লন্ডনে আমি আমার অফিসে বসেই এই সফরের প্রতিবেদন করতে বাংলাদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম।
এই সফরে প্রধান বিষয় দুটো। মুস্তাফিজুর রহমান খেলবেন কিনা এবং জঙ্গি হামলার আশঙ্কা। প্রশ্ন হচ্ছে ফিজই কেন? এর কারণ হচ্ছে, তার বোলিং দৃশ্যত দর্শকদের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম খ্যাতিমান ক্রীড়া সাংবাদিক ডেভিড চার্লসওয়ার্থের কাছে। তিনি আমাকে জানালেন, এটা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজ একদিনের ম্যাচে অংশ নিতে পারেন। ইংলিশ টিমের জন্য বিষয়টি খুব সহজ হবে না। মুস্তাফিজের বোলিং স্টাইলের মোকাবিলায় তারা খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।’
ফিজের বোলিং প্রতিপক্ষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে পারে। ফিজ সম্পর্কে যেটা জানার আছে সেটা হচ্ছে, তিনি এবার আদৌ ইংল্যান্ডের সঙ্গে কোনও ম্যাচ খেলতে পারবেন কিনা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছিল।
ফিজ এক গৌরব। প্রথিতযশা ক্রিকেটাররা যখন ফিজকে নিয়ে কথা বলেন, তারাও ফিজের দিকে ভয়ে ভয়েই তাকান, আহা কী গৌরব।
দলের মধ্যে আর কে হতে পারে এমন হুমকি?
এর উত্তরে সাকিব-আল-হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা বলা যেতে পারে। ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্পদ যা নিয়ে বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে।

টাইমস পত্রিকায় রিচার্ড হবসন বলেছেন, ‘আপনাদের ক্রিকেট দিনে দিনে উৎকর্ষতা লাভ করছে।’

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও ক্রিকেট দল বুঝতে পারছে, দুই দলের জন্যই ম্যাচ হবে আনন্দদায়ক ও একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জেরও। আর দর্শকরা কত আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন, সে কথা তো বলাই বাহুল্য।

নিরাপত্তার দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং বাংলাদেশে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড বা ইসিবির পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রস বলেন, ‘খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যবস্থাপকদের বিবেচনার সর্বাগ্রে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন ব্যাপকভাবে ঝুঁকি অনুমান করতে চাইছি। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমাদের ওপর নির্দেশনাও রয়েছে।’

আমরা খেলোয়াড় ও ব্যবস্থাপক সবার সঙ্গেই আলোচনা করেছি।

তারা নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন, আরও সময় নিয়ে আরও স্পষ্টভাবে ব্যখ্যা করতেও আমাদের আপত্তি নেই। আমরা বিষয়টি বুঝতে পারছি।

স্ট্রস বলেন, ইসিবি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সব দিক বিবেচনা করেই এই সফর সম্পন্ন করবে।

সাংবাদিক ডেভিড বলেন, এখনও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এবং ক্রিকেটের স্বার্থে এই সফরের সফলতা নিশ্চিত করা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করে বলেন, জঙ্গিবাদের কাছে মাথা নোয়ানো ঠিক হবে না।

আমি আগেও লিখেছি, প্যারিসে বেড়াতে যাওয়া ছিল আমার কাছে ভীতিকর, কিন্তু আমাদের এই মনোভাব দূর করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অতিথিদের সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের উইল ম্যাকফারসনও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জঙ্গিবাদ সম্পর্কে জিরো-টলারেন্স অবস্থানের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। জঙ্গি নির্মূলের সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানকেও সাধুবাদ জানান তিনি।

পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয়ের সুপারিশ এই যে, বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ জঙ্গি হামলার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। যদিও লন্ডনসহ অনেক ইউরোপীয় নগরও এই আশঙ্কার বাইরে নয়।

ইংল্যান্ড ৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর সময়কালে দুইটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। ম্যাচগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

ইংল্যান্ডের এই সফর অস্ট্রেলিয়ার ভুল ধারণা ভেঙে দিতে পারে। গত বছর বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছিল অস্ট্রেলিয়া টিম।

ক্রিকেট গর্জন করছে, টাইগারদের সালাম!

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার,লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার এবং সদস্য প্রজন্ম’৭১।