September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

জনশক্তি রফতানি বাড়লেও কমেছে রেমিটেন্স

ডেস্ক : ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয়ের (রেমিটেন্স) ক্ষেত্রে। চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রবাসীরা দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ৩২৩ কোটি ২১ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ লাখ ১৫ ডলার কম।

গত চার অর্থবছরের মধ্যে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রবাসী আয় এত কম আর হয়নি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৩৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩২৭ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রেমিটেন্স প্রবাহের সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের তিনটি মাসেই প্রবাসী আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছে ১০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরে একই মাসের তুলনায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কম।

শুধু আগের অর্থবছরের তুলনায় নয়, চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসের তুলনায়ও সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কমেছে। আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়ে ছিলেন ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় কমেছে ১৪ কোটি ৬ লাখ ডলার।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠায় ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের যে শক্তিশালী রিজার্ভ রয়েছে এর জন্য প্রবাসী আয়ের বড় অবদান রয়েছে। প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে রিজার্ভেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানান, ডলারের বিপরীতে অনেক দেশের মুদ্রার মান কমেছে। সৌদি আরবে তেলের দামও কমে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে প্রবাসীদের আয় কমে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরাবরের মতো সেপ্টেম্বরেও সৌদি আরব থেকে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। দেশটি থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। ১৬ কোটি ৯২ লাখ ডলার পাঠিয়ে এর পরের স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা। আর ইউএসএ থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার।

এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৯ কোটি ৯৩ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার, ইউকে থেকে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, কুয়েত থেকে ৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, ওমান থেকে ৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, কাতার থেকে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, বাহারাইন থেকে ২ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

কোটি টাকার নিচে প্রবাসী আয় আসা দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৪৮ লাখ ডলার, হংকং থেকে ১৪ লাখ ডলার, জার্মানি থেকে ২২ লাখ ডলার, জাপান থেকে ১৭ লাখ ডলার, সাউথ করিয়া থেকে ৬১ লাখ ডলার, লিবিয়া থেকে ২ লাখ ডলার এসেছে।