1
March 2, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

পৃথিবীজুড়ে বিয়ে

ডেস্ক : আইনের ভাষায় চুক্তি। সামজিকভাবে বলা হয় বিয়ে। একটি ছেলের সাথে একটি মেয়ের দৈহিক সম্পর্কের বৈধকরণের নাম হলো বিয়ে। আইনীভাবে বিয়ে মানেই একজনের সাথে অন্যজনের চুক্তি। এখনো পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে প্রেম-ভালোবাসা অত:পর বিয়ে প্রচলিত। সুতরাং বিয়ে করুন, ভালোবাসার বাঁধনে, কোন লিখিত বা মিথ্যের প্রতিশ্রুতিতে নয়।
বিয়ে নিয়ে আমাদের সবারই কম বেশি জল্পনা কল্পনা থাকে। তবে বিয়ের রীতি যখন হয় খুব অদ্ভুত অথবা বিপজ্জনক তখন আমরা কি বিপদেই না পরি। এবার দেখে নেই বিশ্বে প্রচলিত আজব কিছু বিয়ের রীতি :

সম্পর্কিত চিত্র

ভারতঃ
ভারতের মাঙ্গলিক মনে করা হয় এমন সব মেয়েদের প্রথমে কোন একটি গাছের সাথে বিয়ে দেয়া হয় এবং বিয়ের পর গাছটি কেটে ফেলা হয়। মনে করা হয়ে থাকে যেসব মেয়েরা মাঙ্গলিক হয়, বিয়ের পর পরই তাদের স্বামীর মৃত্যুর হয়। এই অভিশাপ থেকে বাঁচতে প্রথমে তাদের গাছের সাথে বিয়ে দিয়ে তা ধ্বংস করে ফেলা হয়। এর মানে হল তাদের উপর থাকা অভিশাপ কেটে গেল গাছের সাথে এই প্রথম বিবাহের ফলে, এবং তার স্বামীও মারা গেছে। এবার তার দ্বিতীয়, মানে আসল বিয়েতে আর কোন বাধাই থাকল না। ভারতের জনপ্রিয় নায়িকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনও কিন্তু মাঙ্গলিক ছিলেন, আর তার প্রথম বিবাহ গাছের সাথেই হয়েছিল!

চীনঃ
চীনের তুইজা গোষ্ঠীর মেয়েরা বিয়ের ঠিক একমাস আগে থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে এক ঘণ্টা ধরে কাঁদে। ঠিক শুনেছেন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা। বিয়ের যখন ২০ দিন বাকি তখন তার মা তার সাথে এই প্রাকবিবাহ কান্নায় যোগ দেয়। এরপর ২০ দিনের মাথায় এই আসরে যোগ দেয় কন্যার নানি। শেষের দিনগুলোতে পরিবারের বাকি সব মেয়েরাও এতে যোগ দেয়। উদেশ্য একটাই, বিয়ের আনন্দ প্রকাশ করা। আসলে তারা যা করে তা হল নিচু স্বরে এক ধরনের গান যা আসলে কান্নার মতই শোনায়। এটাই তাদের ঐতিহ্য।

সুইডেনঃ
সুইডেনে যখনই নববধূ বা বর বাথরুমে যাবার জন্য তাদের টেবিল থেকে উঠে যায়, বসে থাকা তার সঙ্গিকে বিপরিত লিঙ্গের মেহমানরা এসে চুম্বন করার সুযোগ পায়। মানে নতুন বর যদি অন্যদের মাঝ থেকে উঠে বাথরুমে যায়, তবে তার নববধূকে অন্য লোকেরা এসে চুম্বন করে যাবে। আর নববধু যদি তার বরকে রেখে যায়,তবে অন্য নারীরা এসে তাকে আদর করে রেখে যাবে।

আয়ারল্যান্ডঃ
আয়ারল্যান্ডের নববধূ এবং বর বধূ যখন নাচবে, তখন নববধূর খেয়াল রাখতে হয় যেন তার পা অবশ্যই মাটিতে থাকে। নইলে কিন্তু দুষ্ট পরীরা এসে ওকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। কেন এমন বিশ্বাস? কারন পরীরা সুন্দর জিনিস ভালবাসে, আর নববধূ হল সব চাইতে সুন্দর আর আকর্ষণীয় । কাজেই একবার যদি সুযোগ পায়,পরীরা কিন্তু ওকে নিয়েই যাবে। তবে হ্যাঁ, পা যদি মাটির স্পর্শেই থাকে তবে আর দুষ্টগুলো ওকে নিতে পারবে না।

ফিজিঃ
আপনি যদি ফিজির কোন বাসিন্দা হন, তবে বিয়ে করতে একটু ঝামেলা আছে বৈকি। কেননা, ফিজিতে শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তিই কন্যার পিতাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে যার হাতে থাকবে তিমির একটি দাঁত। মানে আপনাকে হয় যেতে হবে ব্ল্যাক মার্কেটে নতুবা সমুদ্রে। তবে বলে রাখছি, পৃথিবীর বৃহত্তম স্তন্যপায়ী এই তিমি মাছ মানেই কিন্তু বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের নিচেই তার বসবাস। তিমির দাঁত সংগ্রহ করার কাজটা একটু জটিলই বটে।

দক্ষিণ সুদানঃ
দক্ষিণ সুদানে নেওউর গোষ্ঠীর লোকেরা বিবাহিত দম্পতিদের কমপক্ষে দুইটি সন্তান না হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করে না। দুইটি শিশু নিয়ে হাসি খুশি পরিবার মানে, এতদিনে সেই দম্পতির বিবাহ সম্পন্ন হল।

কেনিয়াঃ
কেনিয়ার মাসাই উপজাতির বাবাকে যদি দেখেন মেয়ের মুখে থু ছিটাতে, বুঝেবেন এটাই তাদের মেয়ের বিয়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বিদায় দেবার পুরানো রীতি। বিয়ে শেষে সাধারনত মেয়ের বাবা আশীর্বাদের জন্য তার মুখে এবং বুকে থু ছিটিয়ে দেয়। পাছে কারো নজর না লাগে!

সম্পর্কিত চিত্র