June 25, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করে বাবর, পিন্টু

ডেস্ক: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সোমবার ১৮তম দিনের মতো যুক্তিতর্কে এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
আজ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষি (পিডব্লিও-৭২) মেজর (অব.) আতিকুর রহমান, (পিডবিও-৭৩) নাহিদ লায়লা কাকন (জঙ্গি মাজেদ ভাটের স্ত্রী), (পিডব্লিও-৭৪) মোসাদ্দেক বিল্লাহ, (পিডব্লিও-৭৫) আতাহার আলী, (পিডবিও-৭৬) লে.কর্নেল (অব:) গোলাম রাব্বানী, (পিডবিও-৭৭) পুলিশ সার্জেণ্ট মো. সেকান্দার আরী, (পিডবিও-৭৮) সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, (পিডব্লিও-৭৯) আলমগীর কবীর চৌধুরী (জব্দ তালিকা), (পিডবিও-৮০) উত্তম কুমার বিশ্বাস (জব্দ তালিকা), (পিডবিও-৮১) ছাব্বির আহমেদ মাসুদ, (পিডব্লিও-৮২) র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি মো. আবদুল আজিজ সরকার, (পিডবিও-৮৩) এসআই গোলাম রহমানের জবানবন্দির আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ করে। (পিডবিও-৮৪) মেজর (অব:) সৈয়দ মুনিরুল ইসলামের জবানবন্দির আলোকে যুক্তি পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলায় আজকের কার্যক্রম মুলতবী করা হয়।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। মামলার কার্যক্রম আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
উল্লেখিত সাক্ষীদের জবানবন্দীর আলোকে রাষ্ট্রপক্ষ আসামীদের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয়াবহ ওই হামলার আলামত নষ্ট, হতাহতের নির্মম ঘটনা এবং অপরাধীদের বাঁচাতে বিভিন্ন তৎপরতার বিষয় আজ তুলে ধরে। সাক্ষীদের জবাববন্দির আলোকে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা সহ সারা দেশে পরিচালিত সব হামলায় গ্রেনেড সহ গোলাবারুদ সরবরাহ করে বিএনপি নেতা পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময়ে র‌্যাবের ডিজি আব্দুল আজিজ সরকারের জবানবন্দির আলোকে রাষ্ট্র পক্ষে বলা হয়, জঙ্গি মুফতি হান্নান কে গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরকে জানানোর পর তিনি (বাবর) অসন্তোষ্ট ও বিরক্ত হন। মুফতি হান্নান টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদে ২১ আগস্ট হামলার যাবতীয় পরিকল্পনা ষড়যন্ত্র এবং সিলেটসহ অন্যান্য গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকার করে বিভিন্ন তথ্য দেয়। মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির বিষয়টি তৎকালীন উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতে বলে, স্বাক্ষী আব্দুল আজিজ সরকার তার জবানবন্দিতে বলেন- ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ব্যাপারে যেন তিনি কোন পদক্ষেপ না নেন।
প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামীপক্ষের ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এসব সাক্ষ্য জেরা করেছে।
২১ আগষ্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছে। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে.কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন।
বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।