April 20, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

যেনে নিন কোথায় কোথায় হবে শাহীন রেজা নূরের জানাজা..রাখা হবে শহীদ মিনারে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান, সাংবাদিক ও প্রজন্ম ’৭১–এর সাবেক সভাপতি শাহীন রেজা নূর-এর মরোদেহ আগামী বুধবার (৩ মার্চ)  ভোর ৫.২৫ মিনিটে দেশে এসে পৌঁছবে। বিমানবন্দর থেকে প্রথমেই তাঁর মরোদেহ সরাসরি তাঁর পৈত্রিক বাড়ি মোহাম্মদপুরের আসাদ এভিনিউতে নেয়া হবে। সেখানে সকাল ৭ টা থেকে ৮.৪৫ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকাল ৯ টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পৈত্রিক বাড়ি মোহাম্মদপুরের আসাদ এভিনিউয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজার শেষে সকাল ১০.৩০ মিনিট থেকে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।
বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার পর বিকেল ৩ টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা শেষে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শাহীন রেজা নূর-এর মরোদেহ দাফন করা হবে। শাহীন রেজা নূর এর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কানাডার ভ্যাংকুভারে এক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
শাহীন রেজা নূরের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, মাগুরা জেলার শালিখা থানার শরশুনা গ্রামে। তাঁর পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন। মা বেগম নূরজাহান সিরাজী ছিলেন একজন গৃহিণী। আট ভাই-বোনের মধ্যে শাহীন রেজা নূর ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।
শাহীন রেজা নূর ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে অল্প কিছু দিনের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নে লেখাপড়া করতে যান তিনি।
শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন  শহীদ হওয়ার পর শাহীন রেজা নূর ১৯৭২ সালে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের বার্তা বিভাগে অনুলিপিকারের চাকরি গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে দৈনিক ইত্তেফাকের শিক্ষানবিশ সহসম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি কানাডায় যান। সেখানে মন্ট্রিয়েল থেকে বাংলা সাপ্তাহিক ‘প্রবাস বাংলা প্রকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। কানাডা থেকে দেশে ফিরে আবার দৈনিক ‘ইত্তেফাক–এ যোগ দেন। সেখানে তিনি নির্বাহী সম্পাদক থাকা অবস্থায় চাকরি ছেড়ে দেন।
শাহীন রেজা নূর প্রজন্ম ’৭১-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ আরও অনেক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় ১৯৭১ সালের নৃশংস বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন।