May 18, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

smartcapture

ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ টাঙ্গাইল

নটো কিশোর আদিত্য : ঐতিহ্যবাহি টাঙ্গাইল জেলার রয়েছে গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জেলার অসামান্য আর বিরত্বপূর্ণ অবদানের কথা সকলেরই জানা। শুধু তাই নয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি সব দিক থেকেই সমৃদ্ধ আমার প্রিয় এই জেলাটি।

টাঙ্গাইলের নামকরণ বিষয়ে রয়েছে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত। ১৮৬৬ সালের আগে এই নামে কোনো স্বতন্ত্র স্থানের পরিচয় পাওয়া যায় নাই। টাঙ্গাইল নামটি পরিচিতি লাভ করে ১৮৭০ সাল থেকে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই জেলার বিভিন্ন স্থানের নামে ‘আইল’ শব্দের আধিক্য রয়েছে। (যেমন- বাসাইল, ঘাটাইল, ডুবাইল, নিকরাইল, রামাইল ইত্যাদি)। অনেকের ধারণা অন্যান্য স্থানের নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘টাঙ্গাইল’নাম হয়েছে। টং শব্দের ফরাসী অর্থ উঁচু। আর আইল হচ্ছে আবাদী জমির সীমানা সংলগ্ন অংশ। এই অঞ্চলের মানুষ এক সময় বসবাসের জন্য মাটির উপর বাঁশ পুঁতে টং ঘর নির্মাণ করতো। টং ফরাসী শব্দ, যার অর্থ উঁচু। জানা যায, স্থানীয় অনার্য বাসিন্দারা বাসস্থানকে ‘ইল’ বলতো। এলাকাটি প্রাচীনকাল থেকে পাহাড়ের উঁচু ভূমি ও নিকটবর্তী কৃষি জমির সমাহার। উঁচু ভূমি বা টং ও জমির ‘আইল’ এই দুইয়ের সমন্বয়ে এবং বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে টাঙ্গাইল নাম হয়েছে।

টাঙ্গাইলের ইতিহাস প্রণেতা খন্দকদর আব্দুর রহিম সাহেবের মতে, “ইংরেজ আমলে এদেশের লোকেরা উচু শব্দের পরিবর্তে ‘টান’ শব্দই ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিল। এখনো ‘টান’শব্দের প্রচলন আছে। এই টানের সাথে আইল শব্দটি যুক্ত হয়ে হয়েছিল টান আইল। আর সেই টান আইলটি রূপান্তরিত হয় টাঙ্গাইলে”।

আরো প্রচলিত আছে, নীলকর টেংগু সাহেবের গল্প এবং এটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বৃটিশ শাসনের শুরুর দিকে আকুরটাকুর ও শাহবালিয়া মৌজার মধ্যবর্তী এলাকায় টেংগু সাহেবের নীল চাষ ও নীলের কারখানা ছিল। পূর্বোক্ত দুই মৌজার সীমানা বরাবর তিনি উচু মেটোপথ বা আইল যাতায়াতের জন্য তৈরী করেছিলেন। কয়েকজন সাধারণ এই আইলকে টেংগু সাহেবের আইল বলে উল্লেখ করতো। সুতরাং অনুমান করা যায় যে, টাঙ্গাইল শব্দটি টেংগু সাহেবের আইল নামেরই অপভ্রংশ।

৩,৪১৪.৩৫ বর্গকিমি (১,৩১৮.২৯ বর্গমাইল) আয়তনের ঢাকার সর্ববৃহৎ জেলা। যার জনসংখ্যা ৪৪ লখের অধিক। জনসংখ্যার ভিত্তিতে দেশে ৫ম (২০১১ সাালের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী)। দেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। ঢাকা হতে ১০০ কিলোমিটার দূরে ১১৮ টি ইউনিয়ন ও ১২ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত।

মহান মুক্তিযুদ্ধেও এই জেলার রয়েছে গৌরব উজ্জ্বল আর অসামান্য অবদান। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসার তারিখ বাতিলের ঘোষনা দেন। এই ঘোষনার সাথে সাথে সমগ্র বাংলাদেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে; টাঙ্গাইলেও শুরু হয় জঙ্গী মিছিল। মিছিলের স্লোগান ছিল, “ইয়াহিয়ার ঘোষনা বাঙ্গালীরা মানবে না’

‘বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর, আমরা গড়ব নতুন দেশ নাম হবে তার বাংলাদেশ’।

বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো। এই ভাষণে উদবুদ্ধ হয়েই সর্বস্তরের জনতা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলো। এই ঐতিহাসিক ভাষণের পর ছাত্র যুবক জনতা টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন থানা ও গ্রামগঞ্জে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্ত্ততিমূলক সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ২৬ মার্চ টাঙ্গাইল থানায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্ত্ততি। নয় মাসের যুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখে টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী। কাদেরিয়া বাহিনীতে পাঁচটি সেক্টরের অধীনে ৯৭ টি কোম্পানী ছিলো। ১১ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করে। উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের পরেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্ধি ছিলেন। তাকে সামরিক ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ডে দণ্ডিত করেছিল। কাদের সিদ্দিক ঘোষণা দেন যে, বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি এবং তার ৫০ হাজার জোয়ান আত্মসমর্পণ করবেন না। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর কাদের সিদ্দিকি এবং তার জোয়ানরা টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন।

টাংগাইলের আরেকটি গেরিলা বাহিনী ছিলো বাতেন বাহিনী। খন্দকার আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে বাতেন বাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীনতার পক্ষে টাঙ্গাইল জেলায় গঠিত একটি সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী। বাতেন বাহিনী ও কাদেরিয়া বাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকতো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

টাংগাইল জেলায় অন্যান্য শহিদের মধ্যে শহিদ বুদ্ধিজীবী প্যারী মোহন আদিত্যের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত রশীদ হায়দার সম্পাদিত স্মৃতি ১৯৭১–এর পুনর্বিন্যাসকৃত চতুর্থ খণ্ডে, তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত  চিন্তা চেতনার মুক্তিযুদ্ধ কালীন তাঁর ভূমিকা অপরিসীম বীরত্বের কথা আলোকপাত করেছেন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সচিত্র বাংলাদেশ এ, “দেশাত্মবোধ ও আধ্যাত্মিক চেতনায় শহিদ বুদ্ধিজীবী প্যারী মোহন আদিত্য“, কবি সমরেশ দেবনাথের গ্রন্থে, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদারের একাত্তরের গণহত্যা-যমুনার পর্ব ও পশ্চিম তীর, জুলফিকার হায়দারের ঘাটাইলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং টাঙ্গাইলের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থে এবং ভারত থেকে প্রকাশিত পত্রিকাতে প্যারী মোহন আদিত্য সম্পর্কে শহিদ হওয়ার বিবরণ রয়েছে। প্যারী মোহন আদিত্যের স্মরণে পাকুটিয়া সৎসঙ্গ তপোবন বিদ্যালয়ের সামনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সৎসঙ্গ আশ্রম পর্যন্ত সড়কটি ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী প্যারী মোহন আদিত্য সড়ক’ নামকরণ হয়েছে।

শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়। বাংলার চির পরিচিত লোক-সংস্কৃতি নিয়েও টাঙ্গাইল একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এই অঞ্চলের তৈরি চমচম, মিষ্টি আর তাঁতের শাড়ি ছিল উপমহাদেশ খ্যাত। বাংলাদেশের লোক ঐতিহ্যের অংশ মাটির মৃৎপাত্রের ফলক আর নকশী কাঁথা এই এলাকায় বিকাশ লাভ করে। এছাড়াও কয়েকটি মুসলিম ঐতিহ্য তার মধ্যে আটিয়ার মসজিদ, ধনবাড়ির মসজিদ ও মাজার, কদিম হামজানির মসজিদ, খামার পাড়ার মসজিদ ও মাজার প্রভৃতি। উপজাতির ঐতিহ্যও রয়েছে গারোদের ওয়ানগালার। হিন্দু ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে গুপ্ত বৃন্দাবন, পাকুটিয়ার সৎসঙ্গ আশ্রম, বারো তীর্থ, আনন্দ মঠ প্রভৃতি।

বিদেশী বণিক চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মসলিন কাপড়। যা কালের প্রবাহে হারিয়ে গেছে। তাঁত শিল্পের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে টাঙ্গাইলের জামদানী, বেনারসী, তাঁতের শাড়ি, সফট সিল্ক ও কটন শাড়ি। এ ছাড়াও টাঙ্গাইলের তাঁতিরা তাঁতের শাড়ির, লুঙ্গি, গামছা ও চাদর তৈরি করে থাকে। এক সময় দিল্লির মোগল দরবার থেকে বৃটেনের রাজ প্রাসাদ পর্যন্ত মসলিন কাপড়ের অবাধ গতি ছিল।

সুদৃশ্য কারুকার্য ও অনুপম গুণগত মানের জন্যই টাঙ্গাইলের কাঁসা ও পিতলের তৈরি তৈজসপত্র ব্যাপক প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছিলো। জেলার কাগমারীসহ গ্রামাঞ্চলে কাঁসা ও পিতল শিল্পীরা তৈরি করছে নানা দ্রব্যাদি। কাঁসার বাসন ছাড়াও তামা-পিতলের থালা, বাটি, কলসী, গ্লাস, জগ, ঝারি, পঞ্চ প্রদীপদান, মোমবাতিদান আগর বাতিদান, কুপি, চামচ, কাজলদানী, ডেকচি, ডেগ, বোল, খুন্তি, সড়তা, বাটি তৈরি হয়। এছাড়া তৈরি করা হত পিতলের কলসি, জগ, ঘটি, বদনা, লোটা, থালা, গ্রাস, বোল, ডেকচি, চামচ, খুন্তি,কাঁসার ঘন্টা, বাটি, পুষ্পাধার প্রভৃতি। বাদ্যযন্ত্র যেমন করতাল, ঝুনঝুনি ইত্যাদি।

টাঙ্গাইলের এঁটেল মাটির তৈজসপত্র অতন্ত্য টেকসই। মাটির তৈজসপত্র, সানকি, হাড়ি, সরা, বাটি, পিঠা তৈরির ছিদ্রযুক্ত পাতিল, চাড়ি (গবাদি পশুর সম্মুখে যে পাত্রে খাওয়া দেওয়া হয়), দইয়ের ঠিলা, কোলা, গুড়ের মটকি প্রভৃতি টাঙ্গাইলের কুমারদের অনবদ্য সৃষ্টি। নানা ধরণের খেলনা ঘোড়া, গরু, বাঘ, হাতি, কুকুর, মাছ, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি। টাঙ্গাইলের কুমারদের মধ্যে অনেকে প্রতিমা নির্মাণে সিদ্ধহস্ত।

কারুশিল্পেও ছিল অন্যন্য। বাঁশ দিয়ে বাঁশি. ডালি, চাটাই, ধাড়ি, কাইত্যা, বেড়, ডুলি, ঘরের বেড়া, টুকরি, ঝাকা, কূলা চালনি, খালই, তালাই, মাথাইল ইত্যাদি। বেতের তৈরি ডালিয়া, ধান চাউলের বেড় ও তিল তিসি, সরিষা রাখার ছোট বড় ডুলি। বাটখারা প্রচলনের পূর্বে পাঁচসেরি মুনকা বা ধামার ব্যবহার ছিল। পাট বেতের সাহায্যে চমৎকার শীতল পাটি তৈরি হয়।

কাঠমিস্ত্রির কাজ ও কৃষি সরঞ্জামও কম নয়। যেমন, লাঙ্গল, ঈষ, মই, আচড়া, ইচামুগর, গরুর গাড়ি, ঢেঁকি, গৃহনির্মাণ ও নৌ-নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। খাট, পালঙ্ক, বারকোশ, পিঁড়ি, টুল, জলচৌকি থেকে শুরু করে আধুনিক টেবিল চেয়ার শোকেস, আলমিরা প্রভৃতি তৈরিতেও টাঙ্গাইলের সূত্রধররা দক্ষতার সাথে কাজ করছে। মধুপুর, ধনবাড়ী, কালিহাতী, ঘাটাইল, মির্জাপুর, করটিয়া উল্লেখযোগ্য কাঠশিল্পের স্থান দেখতে পাওয়া যেত।

আর প্রায় ২শ বছরের প্রাচীন মিষ্টিশিল্প টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম। ব্রিটিশ আমল থেকে অবিভক্ত ভারতবর্ষসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোড়াবাড়ির চমচম নামে অনেক পরিচিত।

এছাড়া দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে – ফালুচাঁদ চীশতি-র মাজার- আতিয়া, মসজিদ, ৬০ গম্বুজ মসজিদ, হামিদপুর পলাশতলীর ব্রিজ ও বর্ষাকালিন বিল, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, বঙ্গবন্ধু বহুমুখী যমুনা সেতু , আদম কাশ্মিরী-এর মাজার, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার,পরীর দালান হেমনগর জমিদার বাড়ি, খামারপাড়া মসজিদ সাগরদীঘি, গুপ্ত বৃন্দাবন, মহেড়া জমিদার বাড়ি,পাকুটিয়া সৎসঙ্গ আশ্রম, পাকুল্লা মসজিদ, আরুহা-শালিনাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, নাগরপুর চৌধুরীবাড়ী, পুন্ডরীকাক্ষ হাসপাতাল, উপেন্দ্র সরোবর, গয়হাটার মঠ, তেবাড়িয়া জামে মসজিদ, এলেঙ্গা রিসোর্ট , এলেঙ্গা জমিদার বাড়ী, কাদিমহামজানি মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ি, করটিয়া সাদত কলেজ, করটিয়া জমিদার বাড়ি, ধনবাড়ি নবাব বাড়ি, ধনবাড়ী মসজিদ, নথখোলা স্মৃতিসৌধ, রায়বাড়ী, কোকিলা পাবর স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী, মহেরা জমিদার বাড়ি, রাধা কালাচাঁদ মন্দির, পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী, বনগ্রাম গনকবর, স্বপ্ন বিলাস (চিড়িয়াখানা), মোকনা জমিদার বাড়ী, তিনশত বিঘা চর, ভারতেশ্বরী হোমস, বায়তুল নূর জামে মসজিদ, দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি, নাগরপুর জমিদার বাড়ি, এলাসিন ব্রিজ, ডিসি লেক, সন্তোষ জমিদার বাড়ি, অলোয়া জমিদার বাড়ি, ছয়আনী শিব মন্দির, ধলাপাড়া চৌধুরী বাড়ি, ধলাপাড়া মসজিদ উল্লেখযোগ্য।