November 30, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ছিলেন একজন সাদামাটা মানুষ

এস এম জহিরুল ইসলাম: বিচারপতি কাজী এবাদুল হক। একজন ভাষা সংগ্রামী, সুপ্রিমকোর্টের আপিল ডিভিশনের একজন স্বনামধন্য বিচারক। বাংলাভাষায় প্রথম তিনিই রায় লিখেছেন। অবসরের পর সরকার তাকে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। সেই দায়িত্ব তিনি সফলতার সাথে পালন করেছিলেন। তার স্ত্রী অধ্যাপক শরীফা খাতুনও ছিলেন একজন সফল ভাষা সংগ্রামী। আমার সাথে তার পরিচয় ২০০৮ সালে। রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১০ জন ভাষা সৈনিককে সংবর্ধনার মধ্যদিয়ে। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। পরিচয়ের পর থেকে বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ও তার স্ত্রী অধ্যাপক শরীফা খাতুনের সাথে দেখা হতো বিভিন্ন সভা সেমিনারে। ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক প্রয়াত এম আর মাহবুব তাদের বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসতেন। আরজেএফ এর বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে এম আর মাহবুবের মাধ্যমেই আমরা তাদের অতিথি করে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতাম। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানেই তাদেরকে বেশী আমন্ত্রণ জানানো হতো। রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কাজ করে চলছে। সেই সব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আরজেএফ এর সাথে দেশের বরেণ্য ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ট মুুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আরজেএফ এর সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার দেখা বিচারপতি কাজী এবাদুল হক একজন সাদামাটা নিরহংকার মানুষ ছিলেন। সব সময় সাদামাটা পোষাকেই চলতেন। সব সময় স্ত্রী অধ্যাপক শরীফা খাতুনকে সাথে রাখতেন। তার একটি বিষয় আমাকে খুব আনন্দ দিত-অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে শুরুতে যে সময়টা লেখা থাকত। ঠিক সেই সময়েই তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকতেন। কোন কোন সময় নির্দিষ্ট সময়ের আগেও পৌঁছে যেতেন। অনুষ্ঠানস্থলে এসে সবার সাথে কুশল বিনিময় করতেন। সব সময় তার লেখা কিছু বই সাথে রাখতেন। অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথিদেরকে সেই বই উপহার দিতেন।
বিচারপতি কাজী এবাদুল হকের প্রতিটি বক্তব্য ছিল শিক্ষণীয়। তিনি যখন বক্তৃতা রাখতেন তখন মনে হত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ক্লাস হচ্ছে। তার জ্ঞানগর্ব গবেষণাধর্মী বক্তব্য দেয়ার সময় পুরো অনুষ্ঠানস্থল থাকত পিনপতন নিরবতা। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক সব সময়ই প্রচারবিমূখ একজন মানুষ ছিলেন। গত ১৫ জুলাই ২০২২ তাকে আমরা হারিয়েছি। তাকে হারিয়ে বাঙ্গালী জাতি হারিয়েছে একজন যোগ্য ভাষা সংগ্রামী ও বিচারপতি। তার পরকালীন শান্তিই আমাদের সব সময়ের কাম্য।

লেখক : এস এম জহিরুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)