November 27, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কুলাউড়ায় সোয়া দুই লাখ টাকার মহিষ চুরি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা কর্মধা ইউনিয়নে সোয়া দুই লাখ টাকার দুটি মহিষ চুরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ রফিক আলী।

স্থানীয় সূত্রে ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, কর্মধা ইউনিয়নের টাট্রিউলী গ্রামের মোঃ রফিক আলীর পালিত দুটি মহিষ অত্র ইউনিয়নের সারগজ পাহাড়ে বেগুনছড়া এলাকা থেকে গত ০৭ই অক্টোবর রাত্রে মহিষ দুটি চুরি হয়ে যায়। চুরি যাওয়া মহিষগুলো চোরেরা চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ওই এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন মহিষ দুটি আটক করেন এবং তাহার জিম্মায় রাখেন।

কিন্তুু পরবর্তীতে ১০ই অক্টোবর বিকেলে মহিষ দুটির রশিদসূত্রে মালিকানা দাবি করে ওই ইউনিয়নের কিরণ গোয়ালা, পরাগ গোয়ালাসহ অজ্ঞাতনামা দুই/তিন জনে ইউপি সদস্যের কাছ থেকে মহিষগুলো নিয়ে যায়।

এমতাবস্থায় ভোক্তভোগী মোঃ রফিক আলী মহিষ দুটির তথ্য-প্রমাণাদি উপস্থাপন করার পরও স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মহিষ দুটিকে উপর উল্লেখিথ বিবাদীগণকে সমঝাইয়া দেন। এ ব্যাপারে মোঃ রফিক আলী মহিষ দুটিকে উদ্ধার করার জন্য কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, মহিষগুলো আটকের পর ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি থানায় অবগত করেন এবং চেয়ারম্যান পরবর্তীতে মহিষগুলোকে সঠিক তথ্য-প্রমাণাদি উপস্থাপন করে মহিষগুলো মালিকের কাছে হস্তান্তর করেন। এ বিষয়টি আমরা পুনরায় তদন্ত করে দেখব।

ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ জানান, চারটি মহিষ আটক করা হয়। আটকের পর মহিষগুলো ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনের জিম্মায় ছিল পরবর্তীতে মহিষগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। বিভিন্ন মানুষ দাবি করেন মহিষগুলোর জন্য। আমি সকলকে জানাই যে, পালিত মহিষগুলোর তথ্য-প্রমাণাদি আমার কাছে নিয়ে আসার জন্য। সকলের তথ্য-প্রমাণাদি ও কাগজ দেখে স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান সাবেক ইউপি সদস্যদের মতামতে মহিষগুলোকে তাদের মালিকের কাছে হস্তান্তর করি। এসময় অভিযোগকারী মোঃ রফিক আলী তিনিও ফোন দিয়ে জানান এর মধ্যে দুটি মহিষ তার। তাকে তথ্য-প্রমাণাদি পেশ করার জন্য সময় প্রদান করা হলেও তিনি সময়মতো তথ্য-প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেন নি। বৈঠকে তিনি নিজে জানান যে, মহিষগুলো তাহার নয়।

ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন জানান, মহিষগুলো চুরি করে চোরেরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মহিষগুলো আটক করে আমার জিম্মায় রাখি। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবগত করে মহিষগুলো ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি। ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকের মাধ্যমে মহিষগুলো তাদের মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী মোঃ রফিক আলী বলেন, চুরি হয়ে যাওয়া আমার পালিত দুটি মহিষ বিবাদীগণের কাছ থেকে উদ্ধার করে আমার নিকট হস্তান্তর করার জন্য কুলাউড়া থানা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।