December 5, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় প্রদান করা হয় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর

আলী আসগর স্বপন: কিংবদন্তি আইনজীবী সিরাজুল হকের একক নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করে রায় প্রদান করা হয়। ঢাকার তৎকালীন জেলাও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষনা করেন। এতে তিনি খুনী ফারুক রশিদসহ ১৫ জনকে একটি ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রকাশ্যে এসব খুনীদের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন। আদেশে তিনি আরো বলেন,নির্দেশ মোতাবেক মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে কোন অসুবিধার কারন থাকলে প্রচলিত নিয়মানুসারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এই ঐতিহাসিক মামলার বিচার কার্যক্রম অনুষ্টিত হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন কারারক্ষী ভবনে। ১৫১টি কার্যদিবসে এই মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।চার্জশীট ভুক্ত ৭৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। আসামীদের মধ্যে উপস্হিত ছিল কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক আহমদ, কর্নেল(বরখাস্ত)সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান,তাহের উদ্দিন ঠাকুর, কর্নেল (কামান) মুহিউদ্দিন, ক্যাপ্টেন ওয়াহাব জোয়র্দার। রায় ঘোষনার পর ব্যাংকক থেকে আনা হয় খুনী বজলুল হুদাকে।

এই মামলাটি একক নেতৃত্বে পরিচালনায় ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী ও ব্যাক্তিগত বন্ধু কিংবদন্তী আইনজীবী এডভোকেট সিরাজুল হক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন ঢাকার পাবলিক প্রসিকিউটার এডভোকেট কামরুল ইসলাম। প্রসিকিশন টিমে ছিলেন আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক, এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল, এডভোকেট রমজান আলী, এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ও এডভোকেট সাহারা খাতুন। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিদিনেই উপস্হিত থেকেছেন সাহানা হাসনাত ও নজীব আহমেদ।

আমি আলী আসগর স্বপন তখন দৈনিক জনকণ্ঠের স্পেশাল রিপোটার হিসেবে মামলার প্রতি কার্যদিবসে উপস্হিত থেকে যা লিখেছি সবই জনকণ্ঠে রিপোর্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে আমার নিজ নামেই।